Home » শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায়
শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার, শিশুর নিউমোনিয়া, বাচ্চাদের নিউমোনিয়ার লক্ষণ,

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায়

by Dr. ABM Khan
0 comment 195 views

শিশুদের নিউমোনিয়া কি?

নিউমোনিয়া হল ফুসফুসে সংক্রমিত একটি রোগ। এটি হালকা বা গুরুতর হতে পারে। সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর নিউমোনিয়া বেশি দেখা যায়।

শিশুর নিউমোনিয়ার কারণ কি?

নিউমোনিয়া প্রায়শই ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হয়। এই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াগুলো আক্রান্ত এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিউমোনিয়া রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসগুলো হলো-

  • স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়া
  • মাইকোপ্লাজমা নিউমোনিয়া
  • গ্রুপ বি স্ট্রেপ্টোকক্কাস
  • স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াস
  • রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস (আরএসভি)। এটি প্রায়শই 5 বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যায়।
  • প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
  • ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
  • অ্যাডেনোভাইরাস

আবার কখনও কখনও ছত্রাকের কারণেও নিউমোনিয়া হতে পারে।

আরও জানতে পড়ুন:   নিউমোনিয়া কি, কেন হয় এবং লক্ষণ গুলো কি কি?

কোন ধরনে শিশুদের নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেশি?

একটি শিশুর নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে যদি তার মধ্যে নিম্নোক্ত কারণগুলো থাকে-

  • দুর্বল ইমিউন সিস্টেম, যেমন ক্যান্সারের কারণে সৃষ্ট সমস্যা,
  • হাঁপানি বা সিস্টিক ফাইব্রোসিস
  • ফুসফুস বা শ্বাসনালীতে সমস্যা

এছাড়াও ধূমপায়ী ব্যক্তিদের সাথে বাস করা শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া বেশি হতে পারে। আর সেই বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে থাকে যাদের মা ধূমপান করেন।

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণগুলো কি কি?

নিউমোনিয়ার লক্ষণ প্রত্যেকটা শিশুতে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। এটা নিউমোনিয়ার ভিন্নতার উপরও নির্ভর করে। ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট নিউমোনিয়াতে খুব দ্রুত লক্ষণ প্রকাশ পায়। এবং এর লক্ষণগুলো নিম্নরুপ-

  • কাশি যা শ্লেষ্মা তৈরি করে,
  • কাশির সাথে ব্যাথা,
  • বমি বা ডায়রিয়া,
  • ক্ষুধামান্দ্য ও ক্লান্তি ভাব, এবং
  • জ্বর।

ভাইরাল নিউমোনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলি ব্যাকটেরিয়া নিউমোনিয়ার মতোই। কিন্তু ভাইরাল নিউমোনিয়ায় শ্বাসকষ্ট ধীরে ধীরে হয়। আপনার শিশুর শ্বাসকষ্ট এবং কাশি দুটোই হতে পারে যা অত্যন্ত মারাত্মক। শিশুর ভাইরাল নিউমোনিয়া হলে তা ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়ায়ও রূপ নিতে পারে।

শিশুর নিউমোনিয়া নির্ণয় করবেন কিভাবে?

শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে কিনা তা কিছু শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করে নিশ্চিত হতে হবে। নিম্নোক্ত কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে শিশুর নিউমোনিয়া রোগ হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করতে পারেন-

বুকের এক্স – রে : এই পরীক্ষাটি অভ্যন্তরীণ টিস্যু, হাড় এবং অঙ্গগুলির চিত্র তৈরি করে।

রক্ত পরীক্ষা : রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণের লক্ষণগুলো জানা যায়। এটি ধমনীতে রক্তের গ্যাস পরীক্ষা করে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অক্সিজেনের পরিমাণ দেখে।

কফ বা থুতু পরীক্ষা : এই পরীক্ষাটি কাশি এবং মুখের মধ্যে শ্লেষ্মা (থুথু) এর উপর করা হয়। এর মাধ্যমে আপনার সন্তানের সংক্রমণ হয়েছে কিনা তা বোঝা যায়। শিশুদের থেকে নিয়মিত থুতু পাওয়া কঠিন হওয়ায় এটি নিয়মিত করা যায় না।

পালস অক্সিমেট্রি : অক্সিমিটার একটি ছোট মেশিন যা রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ পরিমাপ করে। এই পরিমাপ পেতে, শিশুর পায়ের আঙ্গুলের উপর একটি ছোট সেন্সর টেপ করা হয়। যখন মেশিনটি চালু থাকে, তখন সেন্সরে একটি ছোট লাল আলো দেখা যায়। সেন্সর ব্যথাহীন এবং লাল আলো গরম হয় না।

বুকের সিটি স্ক্যান : এই পরীক্ষা বুকে কাঠামোর ছবি নেয়। এটা খুব কমই করা হয়।

ব্রঙ্কোস্কোপি : এই পদ্ধতিটি ফুসফুসের শ্বাসনালীগুলির ভিতরে দেখতে ব্যবহৃত হয়। এটা খুব কমই করা হয়।

প্লুরাল ফ্লুইড কালচার : এই পরীক্ষাটি ফুসফুস এবং বুকের প্রাচীরের (প্লুরাল স্পেস) মধ্যবর্তী স্থান থেকে তরলের একটি নমুনা নেয়। নিউমোনিয়ার কারণে ওই এলাকায় তরল জমা হতে পারে। এই তরলটি ফুসফুসের মতো একই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রামিত হতে পারে। অথবা তরল শুধু ফুসফুসে প্রদাহের কারণে হতে পারে।

কিভাবে একটি শিশুর নিউমোনিয়া চিকিৎসা করা হয়?

ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়ার জন্য চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হতে পারে। বেশিরভাগ ভাইরাল নিউমোনিয়ার জন্য কোন ভাল চিকিৎসা পাওয়া যায় না। সেগুলো প্রায়ই আপনা আপনি ভালো হয়ে যায়। ফ্লু-সম্পর্কিত নিউমোনিয়ায় একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দিয়ে চিকিত্সা করা যেতে পারে। এছাড়াও কিছু পদক্ষেপ চিকিৎসার ন্যায় ভালো ফল দিতে পারে-

প্রচুর বিশ্রাম ও পানি পান করতে দিন। জ্বর বা অস্বস্তি এবং কাশির জন্য ডাক্তারের পরামর্শ মতো কিছু ঔষুধ খাওয়াতে পারেন।

তবে শিশুর যদি গুরুতর শ্বাসকষ্ট হয় তবে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা করা যেতে পারে।

কিভাবে শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা যেতে পারে?

নিউমোকোকাল নিউমোনিয়া একটি টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা যেতে পারে যা ১৩ ধরনের নিউমোকোকাল নিউমোনিয়া থেকে রক্ষা করে। ২ মাস বয়সী শিশুদের জন্য একটি ভ্যাকসিন পাওয়া যায় যা আপনি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে কথা বলে জেনে নিতে পারেন। এছাড়া ২ বছরের বেশী বয়সী শিশুদের জন্যও আরেকটি ভ্যাকসিন পাওয়া যায় যা নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এগুলো নেয়া ঠিক হবে কিনা তা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সাথে কথা বলুন। এছাড়াও শিশুর জন্মের পর যে সমস্ত টিকা প্রদান করা হয় সেগুলো নিশ্চিত করুন যাতে একটাও মিস না হয়। এর বাইরেও আপনি স্বাস্থ্যবিধির নিয়ম মেনে আপনার শিশুকে নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারেন। আপনার শিশুকে কাশি বা হাঁচির সময় নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে শেখান। ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরি করে দিন। এগুলো অন্যন্য রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

You may also like

Leave a Comment