Home » জেনে নিন লক্ষণসহ গরুর রোগের নাম সমূহ
গরুর রোগের নাম সমূহ

জেনে নিন লক্ষণসহ গরুর রোগের নাম সমূহ

by Dr. Akhtaruzzaman
0 comment 215 views

গরুর রোগের নাম – গৃহপালিত পশু গরুর বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়ে থাকে যেগুলোর সঠিক চিকিৎসা করা না হলে মারা পর্যন্ত যেতে পারে। আপনি যদি গরুর খামার করার কথা ভাবেন বা পারিবারিকভাবে দু-একটা গরু পালনের কথা ভাবেন তবে আপনাকে অবশ্যই গরুর এসব রোগব্যাধি সম্পর্কে জানা থাকা উচিত। আমরা এই আর্টিকেলে গরুর বিভিন্ন ধরনের রোগের নাম উল্লেখপূর্বক সেগুলো চেনার লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করবো।

১। ক্ষুরারোগ

গরুর খুব সাধারণ একটি রোগের নাম হলো ক্ষুরারোগ। এটি সব গরুতে কোনো না কোনো সময় হয়ে থাকে। তাই এই রোগটি সম্পর্কে খামারিদের সচেতন থাকতে হবে। এটি মূলত ভাইরাসজনিত রোগ এবং তীব্র ছোঁয়াচে।

এই রোগের লক্ষণ ‍গুলো নিম্নরূপ-

  • ১০৫-১০৬ ডিগ্রী ফারেনহাইটের ওপরে প্রচন্ড জ্বর থাকবে।
  • মুখ ও জিহ্বা এবং পায়ে ফোসকা দেখা দিবে।
  • এই রোগের ব্যাথায় গরু খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দিবে। এবং
  • মুখ দিয়ে লালা ঝরবে।

২। তড়কা রোগ

ক্ষুরারোগের পর যে রোগটি গরুকে সবচেয়ে বেশি ভোগায় তা হলো তড়কা রোগ। ইংরেজিতে এটাকে অ্যানথ্রাক্স (Anthrax) বলা হয়। এটি মূলত ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগ।

এই রোগের লক্ষণ ‍গুলো নিম্নরূপ-

  • ১০৪-১০৭ ডিগ্রী ফারেনহাইটের জ্বর থাকবে।
  • দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, পেট ফাঁপা, ক্ষুধামান্দ্য ও কাঁপুনি সহ নানা লক্ষণ প্রকাশ পাবে।
  • কখনও কখনও নাক-মুখ এবং প্রস্রাব ও মলদ্বার দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হবে।

৩। বাদলা রোগ

গরুর আরেকটি প্রধান রোগ হলো বাদলা রোগ বা ব্ল্যাক কোয়ার্টার। সাধারণত এই রোগে ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়স্কের গরু গুলো বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।

এই রোগের লক্ষণ গুলো নিম্নরূপ-

  • এই রোগ হলে তীব্র ও অতি তীব্র এই দুই ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
  • আক্রান্ত স্থান ফুলে যায় এবং পচন ধরে।
  • আক্রান্ত গরু খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটে।
  • আক্রান্ত স্থানে চাপ দিলে পচপচ শব্দ হয়।

৪। গলাফোলা রোগ

গলাফোলা রোগও গরুর খুব মারাত্মক একটি রোগ। এই রোগের সঠিক চিকিৎসা করা না হলে গরু মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

এই রোগের লক্ষণ ‍গুলো নিম্নরূপ-

  • দেহের তাপমাত্রা ১০৫-১০৭ ডিগ্রী ফারেনহাইটে উঠে যায়।
  • গলার নিচের অংশ থেকে শুরু করে বুক পর্যন্ত ফুলে যায়।
  • শ্বাস ও প্রশ্বাসের সময় বেশ শব্দ হয় এবং নাম-মুখ দিয়ে তরল পদার্থ বের হয়।
  • কখনও কখনও জিহ্বা ফুলতে পারে।
  • রোগের তীব্রতা খুব বেশি হলে গরু মারা যেতে পারে।

৫। ম্যাসিটাইটিস

প্রাণীর ওলানের গ্লান্ডুলার টিস্যুতে প্রদাহের কারণে এই রোগের নাম ম্যাসিটাইটিস। বাংলায় এটিকে ওলান ফোলা বা ঠুনকো রোগ বলা হয়।

৬। দুধ জ্বর

বুঝতেই পারছেন রোগটি শুধুমাত্র গাভীতে হয়ে থাকে। সাধারণত বেশি দুধ দেয় এরকম গাভীতে এই রোগ হয়ে থাকে। গাভীর রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৫ মিলিগ্রামের নিচে কমে গেলে এই রোগ দেখা দিতে পারে।

এই রোগের লক্ষণ ‍গুলো নিম্নরূপ-

  • পেশীত কাঁপুনিসহ ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়।
  • চোখের মনি বড় হয়ে যায় ও জিহ্বা বের হয়ে আসে।
  • আক্রান্ত গাভী বুকে ভর দিয়ে মাথা একপাশে বাকিয়ে শুয়ে পড়ে।
  • পেট ফুলে যায়।
  • অচেতন হয় আবার মারাও যেতে পারে গাভী।

৭। ল্যাকটেশন টিটেনি

ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে মারাত্মক এই রোগটি হয়ে থাকে। সাধারণত বাচ্চা প্রসবের দুই মাসের মধ্যে এই রোগটি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এবং গরুকে শুধুমাত্র ঘাস খাওয়ালে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতিজনিত এই রোগটি হতে পারে।

এই রোগের লক্ষণ ‍গুলো নিম্নরূপ-

  • আক্রান্ত গরু হঠাৎ খাদ্যগ্রহণ বন্ধ করে দিবে।
  • হঠাৎ হঠাৎ লাফালাফি শুরু করে দিবে।
  • হোচট খেয়ে খেয়ে হাঁটবে।
  • খিচুনি থাকবে এবং দেহের তাপমাত্রা ও শ্বাস-প্রশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।
  • ডায়রিয়া হবে এবং প্রস্রাবের বেগ বৃদ্ধি পাবে।
  • আক্রান্ত গরু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যেতে পারে।

৮। পেট ফাঁপা রোগ

পেট ফাঁপা খুব সাধারণ একটি গরুর রোগের নাম । সাধারণত গরুর পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমার কারণে এই রোগটির সৃষ্টি হয়।

এই রোগের লক্ষণ ‍গুলো নিম্নরূপ-

  • পেটের একপাশ (বামপাশ) আগে ফুলে, পরে পুরো পেট ফুলে যায়।
  • ঘন ঘন উঠাবসা করবে এবং মাটিতে গড়াগড়া করবে।
  • পেটে টোকা দিলে বিশেষ ধরনের শব্দ করবে।
  • এবং গরু খাওয়া দাওয়া বন্ধ করবে।

৯। রক্ত প্রস্রাব

এটি একটি আঁটুলিবাহিত রোগ। সাধারণত ৯ মাসের কম বাছুরগুলোতে এই রোগ হয়ে থাকে।

এই রোগের লক্ষণ ‍গুলো নিম্নরূপ-

  • ১০৩-১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটের তীব্র জ্বর থাকবে।
  • ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিবে।
  • হৃদস্পন্দরে হার বেড়ে যাবে ও শ্বাস-প্রশ্বাস ঘন হবে।
  • রক্তশূন্যতা দেখা দিবে।
  • প্রস্রাবের সাথে রক্ত বেরিয়ে যাবে।
  • এক সপ্তাগের মধ্যে চিকিৎসা না করলে গরু মারা যাবে।

১০। লাম্পি স্কিন ডিজিজ

গরুর এই রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস হলো গোট পক্সি নামক এক ধরনের ভাইরাস। রোগটি মশা-মাছি, এবং রক্ত চোষা আঠালী বা জোঁক দ্বারা প্রাণী থেকে প্রাণীতে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া আক্রান্ত গরুর লালা, দুধ থেকেও রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই রোগের লক্ষণ ‍গুলো নিম্নরূপ-

  • জ্বর ১০৪-১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট উঠে যাবে।
  • নাক-মুখ দিয়ে তরল পদার্থ বের হবে।
  • চামড়ার নিচে ফোস্কা দেখা দিবে ও ফোস্কা ফেটে ক্ষত সৃষ্টি হবে।
  • চোখ লাল ও ঘোলা হবে এবং পানি পড়বে।

এই হলো বিভিন্ন ধরনের গরুর রোগের নাম। চিকিৎসা সম্পর্কে আমরা এখানে কিছুই সাজেস্ট করলাম না। কারণ এর জন্য আপনাকে অবশ্যই নিকটস্থ পশু ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসা দিতে হবে।

You may also like

Leave a Comment