Home » ব্যায়ামের উপকারিতা ও অন্যান্য
ব্যায়ামের উপকারিতা

ব্যায়ামের উপকারিতা ও অন্যান্য

by Dr. ABM Khan
0 comment 149 views

হার্ট এ্যাটাক এ্যাথেরোসক্লেরোসিস্, অতিস্থূল, উচ্চ রক্তচাপ এবং অস্থি স্বচ্ছিদ্রতা নিরাময়ের একটি শক্তিশালী পন্থা সম্পর্কে আপনি কি অবগত হতে চান? প্রত্যেকে এ নিরাময়ের ব্যয় ভার বহন করতে সক্ষম। এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই কিন্তু এটি মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধিকরে এবং এর ফলে অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গও কর্মক্ষমতা অর্জন করে। এই “ওষুধটি” মাংসপেশীর উপরে আলোকপাত করে এবং দেহের শতকরা ৪০ ভাগ ওজনই হচ্ছে মাংস পেশী। আপনি হয়তো এতক্ষণে আন্দাজ করতে পেরেছেন যে আমরা ব্যায়ামের কথা বলছি, তাই না ?

ব্যায়াম কি সাধন করে ?

ব্যায়াম করার সময় মাংসপেশী রক্তবাহ ধমনী ও শরীরকে মালিশ করে ফলে রক্ত সঞ্চালন ক্রিয়ার উন্নতি হয়। ব্যায়ামের মাধ্যমে দীর্ঘ শ্বাস প্রশ্বাস ক্রিয়া আন্দোলিত হয় ফলে লোহিত কণিকা বেশী অম্লজান গ্যাস প্রাপ্ত হয় এবং এই অম্লজান গ্যাস দেহের কোটি কোটি কোষে রক্ত কর্তৃক সরবরাহ করা হয়। এক জন জ্ঞানী লোক বলেছেন যে নিখুঁৎ স্বাস্থ্য নিসৃত সঞ্চালন ক্রিয়ার উপরে নির্ভরশীল এবং নিযুৎ রক্ত সঞ্চালন ব্যায়ামহীনতায় অসম্ভব। রক্ত সঞ্চালন তন্ত্রের একটি নিয়ম রয়েছে এবং সে হচ্ছে যে রক্ত দেহের সেখানেই বেশী। জমায়েত হয় যেখানে বেশী কাজ বা ক্রিয়া সাধিত হয়। বহুক্ষণ যাবৎ ধারণের চর্চার ফলে মাথা ব্যথা হতে পারে কারণ সেখানে বেশী রক্তের উপস্থিতি রয়েছে বলে। রক্ত সঞ্চালনে ভারসাম্যতা রক্ষার সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে শরীর চর্চা বা ব্যায়াম করা।

এখন তাহলে বিবেচনা করুন আপনার হৃদযন্ত্র নিয়মিত ব্যায়াম ছাড়া কি করে উপকৃত হতে পারে। বিশ্বস্ততা সহকারে ব্যায়াম করলে তা থেকে হৃদস্পন্দন হ্রাস পায়। অল্পদিনের মধ্যেই হৃদস্পন্দন মিনিটে পাঁচ স্পন্দন নামিয়ে আনা সম্ভব। এর ফলে ঘন্টায় ৩০০ এবং দিনে ৭০০০ এর বেশী হৃদস্পন্দন আপনি সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবেন। এভাবে অংক কষে দেখুন এ বছর কিংবা ১০ বছরে আপনার হৃদযন্ত্র কি পরিমাণ কাজ থেকে মুক্তি পেতে পারে। ব্যায়ামকৃত আপনার হৃদযন্ত্রের আয়ু বৃদ্ধি পেতে বাধ্য ।

একই সাথে ব্যায়াম করার ফলে আপনার হৃদ পেশীতে রক্ত সরবরাহকারী কৈশিক প্রণালির (capillaries) সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আপনার হৃদযন্ত্রের জন্য সংরক্ষিত ধমনীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ফলে হার্ট এ্যাটাকের বৃদ্ধি হ্রাস পায়। করোনারী ধমনীর (হৃদপীন্ডে রক্ত বহনকারী) আকার ও ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন:

উচ্চ রক্তচাপ কেন হয় ও কমানোর উপায় কি?

চর্বির কাজ কি? অতিরিক্ত চর্বি আমাদের কি কি ক্ষতি করে?

 

বালক ও বৃদ্ধ সকলের জন্য উত্তম

ইদানিং একটি জরীপের ফলাফল একটি শরীর বিজ্ঞান সাময়িকিতে প্রকাশ করা হয়েছে যে বৃদ্ধ এমন কি ৭০ বছর ব্যক্তিদেরও নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিৎ। সেখানে বলা হয়েছে যে চিকিৎসক কর্তৃক অনুমোদিত হবার পর বৃদ্ধ লোকদের এতো দ্রুত হাটা উচিত যে তাদের হৃদ স্পন্দন যেন মিনিটে ১২৫ বার হয় এবং এ অবস্থায় ৩৫-৪৫ মিনিট করে সপ্তাহে তিন বার তাদের ব্যায়াম করা বাঞ্ছনীয়। এ ধরণের ব্যায়াম সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছ’দিন করলে আসে উত্তম ফল। এ প্রকার ব্যায়াম বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের জন্য মঙ্গলকর এবং এতে বৃদ্ধদের অন্য কাজ বিনা চাপে সম্পন্ন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ব্যায়ামের উপকারিতা

ব্যায়াম করে ভালো কোলেষ্টেরল HDL (high density lipoproteins) বৃদ্ধি করা সম্ভব এবং এই কোলেষ্টেরল ধমনী থেকে মন্দ কোলেষ্টেরল নিষ্কাষণ করে ফলে ধমনীর মধ্যেই এ্যাথরোসক্লেরোসিস হয় না।

পর্যাপ্ত ব্যায়াম আপনার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে। এতে হজম বা পরিপাক প্রক্রিয়ায় উন্নতি হয়। মল ত্যাগের নিয়মিত অভ্যাস প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যায়াম করার ফলে ফুসফুস, যকৃৎ, কিডনি, ত্বক ইত্যাদি অংশ রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় ফলে এ সব অঙ্গ দেহ থেকে বর্জ পদার্থ অতিরিক্ত কর্ম ক্ষমতা লাভ করে।

মাংসপেশী হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, ত্বক এবং হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি সাধন করা ছাড়াও ব্যায়াম আপনার মনকে সজীব করে। মস্তিষ্কের অতিরিক্ত ব্যবহার এ অঙ্গটির মধ্যে রক্ত কনজেসন সৃষ্টি করে। মাঝারী ধরণের ব্যায়াম পুঞ্জীভূত রক্ত মস্তিষ্ক থেকে অন্য অবহেলিত অঙ্গে প্রবাহিত করে । সুতরাং ধারণের চর্চা এবং পেশী ব্যবহারের মধ্যেই একটি ভারসাম্যতা রক্ষা করা একান্ত ভাবে বাঞ্ছনীয়।

একটি প্রবাদ রয়েছে, “একজন কর্মব্যস্ত লোকের নিদ্রা সুমধুর হয়।” নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনি সহজে গভীর নিদ্রার আনন্দ লাভ করতে পারেন। তার পর যখন সকালে গাত্রোত্থান করবেন তখন এক কাপ চা কিংবা কফির শক্তি ধার করে আপনার দিনের কাজ

শুরু করতে হবে না ।

অত্যন্ত স্বচ্ছ ভাবে ব্যায়াম তার নিরাময়ের যাদু সাধন করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে এ ব্যবস্থা যাদের বেশী প্রয়োজন তাদের বিধান করা হয় না।

You may also like

Leave a Comment