Home » পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায় ঔষধ | মাসিকের ব্যথা কমানোর ঔষধ
পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায়, মাসিকের ব্যথা কমানোর ঔষধ,

পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায় ঔষধ | মাসিকের ব্যথা কমানোর ঔষধ

by Dr. ABM Khan
0 comment 149 views

মাসিক বা পিরিয়ড মেয়েদের জীবনে একটি অপরিহার্য বিষয়। এটাকে লুকোনো বা এ সম্পর্কে জানাটা লজ্জ্বার কিছু নয়। বরং না জানাটাই ভালো নয়। কারণ, মাসিকের সময় বা মাসিকের কারণে মেয়েদের অনেক শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়, যেগুলোর সঠিক পদক্ষেপ না নিলে পরবর্তীতে এর থেকে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আজকে আমরা আলোচনা করবো, অতি গুরুত্বপূর্ণ এই টপিকটি নিয়ে। এর মধ্যে থাকবে মাসিক কি বা মাসিক কেন হয়, মাসিকের লক্ষণ গুলো কি কি? এবং সবচেয়ে বেশি জোর দেবো মাসিক বা পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায় বা মাসিকের ব্যথা কমানোর ঔষধ সম্পর্কে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

মাসিক কি বা কেন হয়?

মাসিক মেয়েদের ১২-১৪ বছর থেকে শুরু হয়ে ৪০-৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত চলতে থাকে। এটি মেয়েদের জীবনে সাধারণ একটি অধ্যায়। সাধারণত প্রতি মেয়েদের গড়-পড়তা ২৮ দিনের সাইকেলে মাসিক হয়ে থাকে। কারও ক্ষেত্রে কয়েকদিন বেশি বা কম হয়ে থাকে। আবার অনেকের অনিয়মিত মাসিকও হয়ে থাকে। মূলত গর্ভধারণের উদ্দেশে মেয়েদের নারীর ডিম্বাশয় ডিম্বাণু তৈরি হয়ে থাকে। এই ডিম্বাণু যখন নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে পুরুষের শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত হতে ব্যর্থ হয় তখন নির্দিষ্ট সময় পর অনিষিক্ত ডিম্বাণু রক্তের মাধ্যমে যোনিপথ দিয়ে বের হয়ে আসে। আর এটাকে বলা হয় মাসিক বা পিরিয়ড। এ সময় মেয়েদের মেজাজ খিটখিটে, বিষণ্ণতার পাশাপাশি তলপেটে ব্যথা হয় থাকে। তবে বয়স হওয়ার সাথে সাথে এই ব্যথার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

জেনে নিন- ১০টি কাশির ঔষধ ও ৫টি কাশির সিরাপ এর নাম

মাসিকের লক্ষণ কি কি?

মাসিকের লক্ষণ কি কি তা প্রথম প্রথম অনেকেই জানে না। বা অসচেতনতার দরুণ অনেক বয়স্ক নারীরাই এই সম্পর্কে অবগত নয়। মাসিকের সময় মেয়েদের শরীরে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এগুলো হলো-

• তলপেট ব্যথা অনুভূত হওয়া।

• যোনি পথে রক্তপাত হওয়া।

• পিঠে ব্যথা অনুভূত হওয়া।

• স্তন ব্যথা করা বা ভারী অনুভূতি হওয়া।

• দুর্বলতা অনুভব করা।

• মেজাজ খিটখেটে থাকা।

পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায়

মাসিক বা পিরিয়ডের সময় পেট ব্যথা হয়। কখনো তীব্র, কখনো হালকা ভাবে। মাসিকর এই ব্যথা দূর করার কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি আছে যেগুলো ফলো করলে বেশ উপকৃত হতে পারেন। নিম্নে এসব উপায় গুলো তুলে ধরা হলো-

ব্যায়াম: মাসিকের সময় হালকা টাইপের ব্যায়াম পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর অন্যতম উপায়। এধরনের ব্যায়াম হতে পারে হাঁটাহাঁটি করা, সাইকেল চালানো অথবা যোগ ব্যায়াম টাইপের কিছু করা। নিয়মিত এই ব্যায়াম গুলো করলে মাসিকের ব্যথা অনেক কম হবে।

গরম পানিতে গোসল: কুসুম গরম পানিতে গোসল মাসিকের ব্যথা কমাতে অনেকটা সহায়তো করে। তাছাড়া গোসলের কারণে শরীর বেশ ঝরঝরে ও মন ফুরফুরে হয়ে উঠে। মাসিকের কারণে সৃষ্ট ক্লান্তি বা অবসাদ দূর হতে সাহায্য করে।

সেঁক নেওয়া: পিরিয়ডের সময় যদি খুব বেশি পরিমাণে পেট ব্যথা করে থাকে, তবে গরম সেঁক দিতে পারেন। এজন্য হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। অথবা বোতলে তোয়ালে পেচিয়ে গরম পানি নিয়ে হট ওয়াটার বোতলের মত করে তলপেটে সেঁক দিতে পারেন। এতে পিরিয়ডের ব্যথা অনেক কমে যেতে পারে।

আদা: আদা প্রায় সব রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মাসিকের ব্যথা কমাতেও আদা বেশ উপকারি। এসময় কুচি কুচি করে কেটে চায়ের সাথে মিশিয়ে খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

শ্বাসের ব্যায়াম: এছাড়া মাসিকের ব্যথা কমাতে শ্বাসের ব্যায়ামও করতে পারেন। সঠিকভাবে শ্বাসের ব্যায়াম করা হলে পিরিয়ডের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই শ্বাসের ব্যায়মটি নিম্নোক্তভাবে করতে পারেন-

প্রথমে হেলান দিয়ে নিন। বসে বা শুয়ে যেভাবেই করেন না, পিঠটা ঠেকাতে হবে পুরোপুরি। এরপর নাক দিয়ে যতটা সম্ভব শ্বাস নিয়ে পেট ফোলান, এবং হালকা জোর দিয়ে শ্বাস বের করুন। এভাবে ১০-১৫ মিনিট ব্যায়াম করলে পেটের ব্যথা কমে যাবে।

মাসিকের ব্যথার ঔষধের নাম

পিরিয়ডের সময় যে ব্যথা হয় তা দূর করার জন্য ঘরোয়া পদ্ধতির পাশাপাশি কিছু ঔষধও খেতে পারেন। তবে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে খাওয়াটা উচিত নয়। নিম্নোক্ত ঔষধ গুলো মাসিকের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

আইবুপ্রোফেন: মাসিকের ব্যথা দূর করার খুবই ভালো মেডিসিন হল আইবুপ্রোফেন। কারণ মাসিকের ব্যথার জন্য দায়ী কেমিক্যালের এন্টিষেধক আছে আইবুপ্রোফেনে। তাই এটি খাওয়ার ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ব্যথা কমে যায়।

খাওয়ার নিয়ম: ৪০০ মি.গ্রা. এর ট্যাবলেট দিনে দুই থেকে তিনবার খেতে পারেন।

সতর্কতা: খালি পেটে ওষুধ খাওয়া যাবে না। যাদের হার্টের সমস্যা আছে, কিডনিতে সমস্যা আছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।

প্যারাসিটামল: এছাড়াও যেকোন ধরনের ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল যথেষ্ট সাহায্য করে থাকে। ব্যথা তীব্র হলে দিনে ২-৩টি খেতে পারেন। তবে বেশি খাওয়া উচিত না। এতে শরীরে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

দাঁতের ব্যাথার ট্যাবলেট এর নাম | দাঁত ব্যাথার ঔষধ

মাসিকের স্বাভাবিক ব্যথা

মাসিকের সময় ব্যথা হওয়াটা স্বাভাবিক। কারও মাসিক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে বা কারোর পরে ব্যথা হতে পারে। কখনো কখনো এই ব্যথা ৮-৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। তলপেট ব্যথা, পিঠ ব্যথা উরুর ভেতরের দিকে ব্যথা এগুলো স্বাভাবিক ব্যথা।

মাসিকের অস্বাভাবিক ব্যথা

মাসিকের কিছু অস্বাভাবিক ব্যথাও রয়েছে। এগুলো সাধারণত অন্য কোন রোগের দরুণ হয়ে থাকে। এধরনের অস্বাভাবিক ব্যথার লক্ষণ গুলোর মধ্যে রয়েছে তলপেটে তীব্র ব্যথা হওয়া, মাসিকের সাথে অনেক পরিমাণে রক্ত যাওয়া, বড় বড় চাকা আকারে রক্ত যাওয়া, সাদাস্রাব হওয়া ইত্যাদি। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে ভালো কোন গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।

আশা করি আপনি উপরের লেখাগুলো পড়ে উপকৃত হয়েছেন। এর মাধ্যমে আপনি পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায় জানতে পেরেছেন। এবং সেই সাথে মাসিকের ব্যথা কমানোর ঔষধ সম্পর্কেও জানতে পেরেছেন। এগুলো আপনার পরিবারের মেয়েদের সুস্থ থাকার জন্য খুবই দরকারি বিষয়।

You may also like

Leave a Comment