Home » দাঁতের ব্যাথার ট্যাবলেট এর নাম | দাঁত ব্যাথার ঔষধ
দাঁতের ব্যাথার ট্যাবলেট, দাঁত ব্যাথার ট্যাবলেট এর নাম, দাঁত ব্যাথার ঔষধ,

দাঁতের ব্যাথার ট্যাবলেট এর নাম | দাঁত ব্যাথার ঔষধ

by Dr. ABM Khan
0 comment 207 views

প্রচন্ড দাঁতের ব্যাথা? অসহ্য যন্ত্রণা? কি ট্যাবলেট খাবেন জানেন না? দাঁতের ব্যাথা, মাড়ির ব্যাথা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজছেন? তাহলে সঠিক জায়গায় চলে এসেছেন। আজকে আমি আপনাদের জানাবো দাঁতের ব্যাথার ট্যাবলেট তথা দাঁত ব্যাথার ঔষধ এর নাম। এবং সেই সাথে দাঁতের মাড়ি ব্যাথা কমানোর উপায় সম্পর্কে। তাই, দেরি না করে চলুন এখনি জেনে নিই দাঁত ব্যাথার ট্যাবলেট এর নাম।

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ cavity সমস্যায় আক্রান্ত। যার কারণে মানুষ দাঁতের যন্ত্রণায় ভোগে। দাঁতের বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশনের জন্য আমাদের বিভিন্নন ধরনের ঔষধ খেতে হয়। এরকমই খুব শক্তিশালী দাঁত ব্যাথার ঔষুধ সম্পর্কে আজ আপনাদের জানাবো।

নরমেন্স ট্যাবলেট এর কাজ, খাওয়ার নিয়ম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য

অধিকাংশ লোকের সাধারণ ধারণা হলো যে পোকায় দাঁত খেয়ে ফেললে দাঁত ব্যাথা হয়ে থাকে। কিন্ত আদতে তা নয়। বিভিন্ন কারণে দাঁত ব্যাথা হতে পারে। দাঁতের মাড়িতে ব্যাথা হতে পারে। অবস্থা বুঝে দাঁত ব্যাথার এন্টিবায়োটিক নিতে হবে। যেহেতু দাঁত ব্যাথা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। তাই আমাদের এর থেকে মুক্তির উপায় অবশ্যই জানা থাকতে হবে। তাই আজ আমরা দাঁত ব্যথার কারণ গুলো, দাঁত ব্যথার ট্যাবলেটের নাম ও দাঁত ব্যথা দূর করার ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে জানবো।

দাঁত ব্যথা হওয়ার কারণসমূহ

প্রথমে জেনে নিই কেন দাঁত ব্যাথা হয়। দাঁত ব্যথা নানা কারণে হতে পারে। তবে যেসব কারণেই দাঁত ব্যাথা হোক না কেন চিকিৎসা তো নিতেই হবে। সে বিষয়ে আসছি পরে। আগে তো দাঁত ব্যাথার কারণ গুলো জেনে নিই। নিম্নোক্ত কারণে দাঁত ব্যাথা হতে পারে-

১। ক্যালিসিয়ামের অভাবে দাঁতে ব্যথা হয়।

২। নিয়মিত ব্রাশ না করা অর্থাৎ দাঁত পরিষ্কার না করার কারণে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে।

৩। দাঁতের ফাঁকে খাদ্য আটকে থাকলে।

৪। আক্কেল দাঁত ওঠার সময় দাঁত ব্যথা হয়।

৫। কোন কারণে দাঁত ক্ষয় হয়ে গেলে দাঁত ব্যথা হয়।

৬। ইনফেকশনের কারণে বা মাড়িতে ফোঁড়া হওয়ার কারণেও দাঁত ব্যথা হয়।

দাঁতের ব্যাথার ট্যাবলেট

আপনি যেহেতু দাঁতের ব্যাথার ট্যাবলেট এর নাম জানতে এসেছেন, তাই আর দেরি করা ঠিক হবে না। তবে তার আগে কিছু কথা না জানলে নয়।

প্রথমে আপনার জানতে হবে দাঁত ব্যাথা কেন হচ্ছে বা দাঁত ব্যাথার কারণ, যা উপরে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর সে অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খেতে হবে।

Alcet 5mg এর কাজ কি? অ্যালসেট কি কাজ করে?

এখন বাজারে বিভিন্ন ধরনের দাঁত ব্যাথার ঔষধ পাওয়া যায়। সাধারণত সামান্য দাঁত ব্যাথার জন্য প্রাথমিকভাবে আপনি প্যারাসিটামল খেতে পারেন। এতে দাঁত ব্যাথা কিছুটা কমতে পারে এবং দাঁত ব্যাথার কারণে জ্বর জ্বর ভাব হয়ে থাকলে তাও চলে যাবে। এরপরও যদি অতিরিক্ত দাঁত ব্যাথা অনুভব করন তবে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। এখানে কয়েকটি দাঁত ব্যাথার ট্যাবলেট এর নাম উল্লেখ করছি যেগুলো খেলে দাঁত ব্যাথা থেকে উপশম পাওয়া যায়।

Fanamic 250: ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী রোগী অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জন্য দিনে দুই থেকে তিনবার পরপর তিন দিন খেতে হবে। তাও যদি ব্যাথা না কমে তবে পাঁচদিন খেতে হবে।

Fenamic 500: দাঁত ব্যাথা এবং মাড়ি ব্যাথা রোগে এটি নির্দেশিত হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ ১৮ বছর এর উর্ধ্বে যারা, তারা দিনে দুই থেকে তিনবার একটি করে ট্যাবলেট খেতে হবে। এভাবে পরপর তিনদিন খেতে হবে।

Napa One: দ্রুত ব্যাথা নিরাময়ের জন্য এই ট্যাবলেটটি খেতে পারেন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ট্যাবলেট টা অর্ধেক করে দুই থেকে তিন বার খেতে দিতে হবে। আর প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ ১৮ বছরের উপরে যারা তারা একটি করে দিন দুই থেকে তিনটি ট্যাবলেট খেতে পারেন।

দাঁত ব্যথার ট্যাবলেট এর নাম

এছাড়া অন্যান্য দাঁত ব্যাথার ট্যাবলেট এর মধ্যে রয়েছে-

  • Tory 120mg
  • Cox-E 120mg
  • Amodis 400
  • Algirex 120mg
  • Ecox 120mg
  • Aroxia 12p mg
  • Moxacil 500
  • Exilok 20
  • Torimon 90mg

দাঁতের মাড়ি ব্যথা কমানোর উপায়

এবার আসি দাঁতের মাড়ি ব্যাথা কিভাবে কমাবেন সে সম্পর্কে। দাঁত ব্যথা কি কি কারণে হয়ে থাকে সে সম্পর্কে আমরা উপরে জেনেছি। চলুন এখন জেনে নেয়া যাক দাঁতের যন্ত্রণা কমানোর উপায়। এগুলো দাঁতের মাড়ি ব্যাথা কমানোর ঘরোয়া উপায় হিসেবে প্রসিদ্ধ।

লবণঃ গোলমরিচের গুঁড়া ও লবণ পানিতে মিক্সড করে একটি পেস্ট তৈরি করুন। লবণ এবং মরিচের মধ্যে রয়েছে ব্যাকটেরিয়ারোধী ও অ্যানালজরসসিক উপাদান। এই এই পেস্ট দাঁত ব্যাথার স্থানে লাগালে দ্রুত ব্যাথা কমে যাবে।

লবণ পানিঃ লবন পানি মাড়ি ফোলা, দাঁতে ব্যথা, গলা ব্যথা ইত্যাদির জন্য খুবই উপকারী আমরা সবাই জানি। কুসুম গরম পানিতে এক চামচ লবণ মিশিয়ে দিনে তিন থেকে চার বার গড়গড়া করলে দাঁতের ব্যথা ও গলা ব্যথা দূর হয়।

কমেট ৫০০ এর কাজ কি, খাওয়ার নিয়ম, দাম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য

লবঙ্গ: লবঙ্গ ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। দাঁতে ইনফেকশন হলে লবঙ্গ পিষে তাতে দুই ফোটা অলিভ অয়েল তেল নিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করুন। দ্রবণটি ব্যথাযুক্তির স্থানে লাগান এবং জিভ দিয়ে চেপে ধরে থাকুন। দেখবেন কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যথা কমে গেছে।

পেয়ারা পাতা: প্রাচীনকাল থেকে পেয়ারা পাতা দাঁত ব্যাথার ঔষধ হিসেবে গ্রামে-গঞ্জে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কারণ পেয়ারা পাতার রস দাঁত ব্যথার জন্য খুবই উপকারী। পেয়ারা পাতা পানিতে সিদ্ধ করে উক্ত পানি মাউথ ওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করলে দাঁত ব্যাথার উপশম পাবেন।

রসুন: রসুন নানা ধরনের এন্টিবায়োটিক উপাদানে ভরপুর। যেকোনো ব্যথা কমানোর জন্য রসুন খুবই উপকারী। দাঁতে ব্যথা দূর করার জন্য এক খোয়া রসুন চিবিয়ে খান। দেখবেন, দাঁতের ব্যাথা থেকে বেশ আরাম পাচ্ছেন।

নিম পাতাঃ নিম পাতা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ কাজ করে। নিম পাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন। তারপর উক্ত পানি ছেঁকে নিয়ে দাঁতে এক চামচ লবণ মিক্স করুন। এরপর ওই পানি কুলকুচি করে মুখ দিয়ে ফেলুন। এতে দাঁত ব্যাথা থেকে অনেক উপশম পাবেন।

পরিশেষে বলবো, দাঁত ব্যথা খুবই মারাত্মক ও যন্ত্রণাদায়ক একটি ব্যথা। এই ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে আপনি ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বনের পাশাপাশি উপরোক্ত কাজগুলো করতে পারেন। তবে দাঁত ব্যাথা বেশ মারাত্মক হয়ে উঠলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। এছাড় উপরে দাঁতের ব্যাথার ট্যাবলেট সাজেস্ট করা আছে । চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সেই ট্যাবলেটগুলোও খেতে পারেন।

You may also like

Leave a Comment