Home » টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত?
টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত

টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত?

by Dr. ABM Khan
0 comment 248 views

টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত আমাদের অনেকেই জানেন না। জ্বর হলো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। দেহে কোন জীবাণুর সংক্রমণ হলে জ্বর হতে পারে। অসুস্থ হওয়ার একটি অন্যতম উপসর্গ হচ্ছে জ্বর। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদির দ্বারা আক্রান্ত হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে জ্বর হয়েছে বলা হয়। আরও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার দিন তিনেকের মধ্যে সেটি ভালও হয়ে যায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বর হলে সেটি চিন্তার কারণ হয়ে উঠে। আজকে জানবো, টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খেতে হবে সে সম্পর্কে

টাইফয়েড কি?

টাইফয়েড জ্বর এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত রোগ, যার ইংরেজি নাম হলো  টাইফয়েড ফিভার বা এন্টারিক ফিভার। এটি মূলত পানিবাহিত সংক্রামক রোগ। স্যালমোনেলা টাইফি ব্যাক্টেরিয়ার কারণেই এটি হয়ে থাকে। এ সম্পর্কে আরও ভালো করে জানেত পড়তে পারেন টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার লেখাটি।

টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত

টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া যাবে, কি কি খাওয়া যাবে না এসব নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। তাদের জন্য আমার নিম্নেক্ত পরামর্শ রইলো-

টাইফয়েড জ্বরের সময়ে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন ও কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেতে হবে। এসময় জলীয় খাবারের পরিমাণ বেশি খাওয়া উচিত। এছাড়াও টাইফয়েড জ্বরের সময় আর কি কি খাওয়া উচিত সে বিষয়ে ৫ টি খাদ্য তালিকা আপনাদের দিচ্ছি।

১। তরল খাবার

টাইফয়েড জ্বর হলে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণের বিকল্প নেই। কারণ এ সময় রোগীর শরীরে জল তথা তরলের খুব অভাব দেখা দেয়। ডায়রিয়ার মত সমস্যা দেখা দেয় এবং শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি হয়ে থাকে। তাই চিকিৎসকরা এ সময় অধিক পরিমাণে জল পান করার পরামর্শ দেন। এসময় রোগীকে ডাবের পানি, লেবু-পুদিনা শরবত, টাটকা ফলের রস, দই ইত্যাদি তরল খাবার খাওয়ানো যেতে পারে। টাইফয়েড জ্বরে ডিহাইড্রেশনের পাশাপাশি প্রচুর ঘাম হয় বলে শরীর থেকে অনেক জল বেরিয়ে যায়। এজন্যও রোগীকে বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়ানো উচিত। এসময় শসা, জামরুল, তরমুজ ইত্যাদি পানি জাতীয় ফল খাওয়ানো উচিত। এছাড়াও সম্ভব হলে চিকেন স্যুপ, মাশরুম স্যুপ, গাজর, মুগ ডালের স্যুপ ইত্যাদি খাওয়ানো যেতে পার্

২। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার

কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার হজমে সাহায্য করে। যেহেতু টাইফয়েডে আক্রান্ত ব্যক্তি যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়েন, তাই শরীরে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দ্রুত সরবরাহ করতে রোগীকে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার দিতে হবে। এসব খাবারের মধ্যে আছে- মাছ, চিকেন, সিদ্ধ আলু ইত্যাদি। এগুলো দ্রুত হজমে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও ডিম, পাকা কলা ও মুগ ডালের খিচুরি খাওয়ানো যেতে পারে।

৩। শুকনো আঙ্গুর ও ফল জাতীয় খাবার

আঙ্গুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন। শুকনো আঙ্গুর ইউনানীর ওষুধ হিসাবেও ব্যবহার করা হয়। টাইফয়েডে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর বেশি থাকলে শুকনো আঙ্গুর ভিজিয়ে ৪-৫টি খেতে দিলে বেশ উপকার হয়। এছাড়াও অন্যান্য ফল যেমন- মাল্টা, বেদানা, আনারস ও কমলার জুসও দেয়া যেতে পারে। এগুলো ভিটামিন সি’যুক্ত হওয়ায় রোগী জন্য বেশ উপকারী হয়।

৪। ক্যালরিযুক্ত খাবার

চিকিৎসকরা টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীদের উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীর সুস্বাস্থ্যের জন্য উচ্চ ক্যালোরি সম্পন্ন খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। টায়ফয়েডে আক্রান্ত রোগীর শরীর অনেক বেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং ওজনও কমতে শুরু করে। যার ফলে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার গুলি শরীরের শক্তি যোগাতে সাহায্য করে থাকে। ক্যালরিযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে ঘি, মাখন,কলা,খেজুর,মিষ্টি আলু অথবা পিনাট বাটার ইত্যাদি। এগুলো রোগীর জন্য খুব উপকারী।

৫। দুগ্ধজাতীয় খাবার

দুগ্ধজাতীয় খাবার শরীরে বল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সাথে পুষ্টির চাহিদাও মেটায়। টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীর জন্য দুগ্ধজাত খাবারদাবার গুলো  শরীরের জন্য খুবই কার্যকরী। রোগীর শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে এই খাবার গুলো অনেক উপকারী। রোগী তার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে থাকে। দুগ্ধজাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে দই, ইয়োগার্ট, লস্যি, ছানা ও পনির ইত্যাদি। এছাড়া মধু দিয়ে বাড়িতে তৈরি পুডিং ও কাস্টার্ড খাওয়ানো যেতে পারে।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত এই বিষয়ে অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন উঁকি দিয়ে থাকে। চলুন, এসম্পর্কিত বহুল জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর জেনে নিই।

টাইফয়েড জ্বরের ক্ষতিকর দিকগুলো কি কি?

টাইফয়েডে পরিপাকতন্ত্র ছিদ্র এবং রক্তক্ষরণ হতে পারে। অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ, মেরুদণ্ডে সংক্রমণ, মস্তিষ্কে প্রদাহ, প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া, পিত্তথলিতে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোড়া এবং স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। সর্বোপরি রোগকে ছোট করে দেখতে নেই অতি ছোট রোগও হয়ে যেতে পারে মৃত্যুর কারন।

টাইফয়েড কি ছোঁয়াচে রোগ?

হ্যাঁ, টাইফয়েড একটি ছোঁয়াচে পানিবাহিত রোগ। 

উপসংহার

টাইফয়েড রোগ বিভিন্নভাবে হতে পারে। অপরিচ্ছন্নতা, ঘনবসতি, খাবার আগে ও পরে সঠিকভাবে হাত না ধোয়া, দূষিত পানি পান বা খাবার খাওয়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং কম সেদ্ধ খাবার খাওয়ার ইত্যাদি কারণে এ রোগ বেশি হয়ে থাকে। এ ছাড়াও টাইফয়েড জ্বর হতে সেরে ওঠা কোন ব্যক্তির মাধ্যমেও এ রোগ ছড়াতে পারে। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি সেরে উঠলেও শরীরের পিত্তথলিতে এই জীবাণু সুপ্ত অবস্থায় থেকে যেতে পার। এছাড়া টাইফয়েড প্রবণ এলাকায় ভ্রমণ করলেও টাইফয়েড হতে পারে। আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে জীবাণু ছড়ায়।

তাই বলা যায়, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করে আমরা টায়ফয়েডের আক্রমন থেকে বাঁচতে পারি। টাইফয়েড থেকে বাঁচার একটাই উপায় হলো পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন। এ ছাড়া নির্ধারিত ভ্যাকসিন বা টিকা গ্রহণ করা যেতে পারে। টাইফয়েড থেকে আরোগ্য লাভের পর পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত তালিকা কঠোরভাবে মেনে চলবো।

সবশেষে “টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত” এই বিষয়ে আপনার যদি আরও কিছু জানার থাকে তবে এই পোস্টের নিচে মন্তব্য করে জানাতে পারেন। এছাড়াও এই পোস্ট-টি তথ্যবহুল মনে হলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে সচেতন করতে পারেন। ধন্যবাদ।

You may also like

Leave a Comment