Home » ছাগলের রোগ সমূহ জেনে নিন লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়সহ
ছাগলের রোগ সমূহ, ছাগলের রোগ,

ছাগলের রোগ সমূহ জেনে নিন লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়সহ

by Dr. Akhtaruzzaman
0 comment 208 views

অন্যান্য গৃহপালিত পশুর মতো ছাগলেরও বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবাণু যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, মাইকোপ্লাজমা ইত্যাদি এবং পরজীবী যেমন- কৃমি, প্রোটোজোয়া, উঁকুন, আঠালি ইত্যাদি, অপুষ্টি, বংশগত অস্বাভাবিকতা, বিপাকীয় সমস্যা এবং বিষাক্ত পদার্থের কারণে এই সব রোগ হতে পারে। আজকের লেখায় আমরা ছাগলের রোগ সমূহ জানবো তাদের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় সহ।

ছাগলের রোগ সমূহ

১। তড়কা বা অ্যানথ্রাক্স

সাধারণত গ্রীষ্ম প্রধান দেশে এই রোগটি বেশি হয়ে থাকে। ছাগলকে স্যাঁতস্যাতে পরিবেশে রাখলেে এই রোগটি হয়ে থাকে। রোগটি এতটাই মারাত্মক যে, জীবণু ছাগলের শরীরে প্রবেশ করার ১২-১৬ ঘণ্টার মধ্যেই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এমনও হতে পারে যে, লক্ষণ প্রকাশের আগেই ছাগলটি মারা গেলো। মূলত ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামক জীবাণু দ্বারা তড়কা রোগটি হয়ে থাকে।

লক্ষণসমূহ

  • তড়কা রোগ হলে ছাগলের নিম্নের লক্ষণ প্রকাশ পায়-
  • প্রচন্ড জ্বর হয়।
  • ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়।
  • আক্রান্ত ছাগল খুব অস্থির হয়ে উঠে
  • পেট ব্যাথায় কাতর হয়।
  • পায়খানার সাথে রক্ত বের হয়।
  • আক্রান্ত ছাগল অজ্ঞান বা মারাও যেতে পারে।

প্রতিরোধ

তড়কা রোগে আক্রান্ত কোনো ছাগল মারা গেলে বা তড়কা রোগের কারণে কোনো ছাগল মারা গেছে এরকম সন্দেহ হলে অন্য ছাগলদের দ্রুত শুষ্ক ও উঁচু স্থানে সরিয়ে ফেলতে হবে। এবং মৃত ছাগলকে মাটির অনেক গভীরে গর্ত করে পুঁতে ফেলতে হবে।

২। ওলান পাকা বা ম্যাসটাইটিস

গরু মহিষের মতো ছাগলেরও ওলান পাকা রোগ হয়। সাধারণত বাচ্চা দেয়ার আগে বা পরে এই রোগ হয়ে থাকে। কোন কোন সময় ছোটখাট ক্ষত থেকেও এই রোগের সংক্রমণ হতে পারে। মূলত বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া এই রোগের জন্য দায়ী।

লক্ষণসমূহ

  • প্রচুর জ্বর থাকে, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায়।
  • ওলান শক্ত ও বাঁট ফুলে যায়।
  • বাঁট দিয়ে পাতলা বা জমাট বাঁধা দুধ বেরিয়ে আসে।
  • মাঝে মাঝে দুধের সঙ্গে রক্তও বেরিয়ে আসতে পারে। এবং
  • আক্রান্ত ছাগলের হঠাৎ মৃত্যু ঘটে।

প্রতিরোধ

এই রোগ যেহেতু ছাগলের ওলান এবং বাঁটে হয়ে থাকে তাই দুধ দোহনের সময় বা ছাগল ছানাগুলো দুধ খাওয়ার সময় যাতে কোনো ক্ষত সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি ক্ষত সৃষ্টি হয় তবে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতর জায়গাটি জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এবং ছাগল ছানাগুলোকে অন্য ছাগলের দুধ খাওয়াতে হবে।

৩। পাল্পি কিডনি ডিজিজ

এই রোগের জন্য দায়ী হলো কোল্ডসট্রিডিয়াম পারফ্রিনজেন্স টাইপ-ডি নামক ব্যাকটেরিয়া। এই রোগ হলে কিডনি নরম ও ফুলে যায়। এজন্য এই রোগের নাম পাল্পি কিডনি ডিজিজ বলা হয়। ছাগলকে অতিরিক্ত দানাদার খাবার দিলে ছাগলের ক্ষুদ্রান্ত্রে বিদ্যমান কোল্ডসট্রিডিয়াম জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে এই রোগের সৃষ্টি করে। ব্যাকটেরিয়াটি তীব্র বিষ উৎপাদন করতে থাকে এবং বিষক্রিয়ায় ছাগল দ্রুত মারা যায়। স্বাস্থ্যবান ছাগলদের এই রোগ বেশি হয়ে থাকে।

লক্ষণসমূহ

এই রোগের সবচেয়ে মারাত্মক দিক হলো কোন প্রকার উপসর্গ বা লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই ছাগল মারা যায়। তবে কিছু লক্ষণ দেখে এই রোগ নির্ণয় করা যেতে পারে। যেমন-

  • ছাগল দাঁড়ানো অবস্থায় চতুর্দিক ঘুরতে থাকে।
  • শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় ও কাঁপুনি সৃষ্টি হয়।
  • পেট ব্যথার দরুণ আক্রান্ত ছাগল শুয়ে পা ছোঁড়াছুড়ি করতে থাকে।
  • পাতলা পায়খানা হয় এবং দুর্বল হয়ে পড়ে।
  • অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায়।
  • মারা যাওয়ার পর পরই চামড়ার রং বিবর্ণ হয়ে পড়ে এবং মৃতদেহে দ্রুত পচন ধরে।

প্রতিরোধ

ছাগলকে দানাদার খাদ্য বেশি সরবরাহ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যবান ছাগলদের দানাদার খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে হবে। আক্রান্ত ছাগলকে অন্য ছাগলদের থেকে আলাদা করে পরিচর্যা করতে হবে। এবং এদের মল-মূত্র ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে।

৪। ব্রুসেলোসিস

এই রোগটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত। গর্ভাবস্থায় এই রোগ বেশি হয়ে থাকে। এই রোগের কারণে ছাগলের গর্ভপাত হয়ে থাকে। গর্ভাবস্থা ছাড়াও সাধারণ অবস্থাতে এই রোগ হতে পারে।

লক্ষণসমূহ

  • ছাগলের জরায়ু ও গর্ভফুল আক্রান্ত হয়ে গর্ভপাত হয়।
  • আক্রান্ত ছাগল দীর্ঘদিন গর্ভধারণে অক্ষম হয়।
  • পুরুষ ছাগলের অণ্ডকোষ ফুলে যায়।
  • অনেক সময় ছাগলেরে যৌন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

প্রতিরোধ

আক্রান্ত ছাগলকে পাল থেকে আলাদা করে পরিচর্যা করতে হবে।

শেষ কথা

উপরের রোগগুলো ছাড়াও ছাগলের আরও বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। বলা হয়ে থাকে, অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণীর চেয়ে ছাগলের রোগ সবচেয়ে বেশি। যদিও ছাগল পালন বেশ লাভজনক, তবে ছাগল পালন করার জন্য ছাগলের রোগ সমূহ আগে জেনে নিতে হবে। রোগের লক্ষণ দেখে রোগগুলো চিনতে পারলে তবেই উপযুক্ত চিকিৎসা ও পরিচর্যা করা যাবে।

তবে একটা পরামর্শ থাকবে, ছাগলের যেকোনো ধরনের রোগ দেখা দিলে শুধুমাত্র অনলাইন ব্লগের লেখালেখি পড়ে চিকিৎসা করা উচিত হবে না। আপনার উচিত হবে নিকটস্থ পশু ডাক্তার বা এ সম্পর্কে অভিজ্ঞ কারোর সাথে যোগাযোগ রাখা। এবং ছাগলের যেকোনো ধরনের সমস্যায় তাদের পরামর্শ নেওয়া। ব্লগের এই লেখাগুলি শুধুমাত্র প্রাথমিক জ্ঞান ও ধারণা দেওয়ার জন্য।

ছাগলের রোগ সমূহ জানার পাশাপাশি আরও জেনে নিতে পারেন>>

লক্ষণসহ গরুর রোগের নাম সমূহ

 

You may also like

Leave a Comment