Home » ছবিসহ ধানের রোগের নাম সমূহ জেনে নিন
ধানের রোগের নাম সমূহ

ছবিসহ ধানের রোগের নাম সমূহ জেনে নিন

by Dr. Akhtaruzzaman
0 comment 202 views

নিম্নে ধানের বিভিন্ন ধরনের রোগের নাম ছবিসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

১) ব্লাস্ট

ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন ধানের ব্লাস্ট রোগ। এটি ধানের রোগ গুলোর মধ্যে জনপ্রিয় একটি রোগ। ধান গাছের পাতা, কান্ড এবং শীষে এই রোগের আক্রমণ ঘটে।

ধানের ব্লাস্ট রোগ
আক্রান্ত ধান গাছে চোখের ন্যায় গোলাকার বা ত্রিকোণাকৃতির দাগ দেখলে বুঝবেন ধানের ব্লাস্ট রোগ হয়েছে। আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য খেয়াল করবেন এর কেন্দ্রে সাদা বা ধূসর এবং চারদিকে বাদামি দাগ পড়েছে কিনা। এটা হলো ধান গাছের পাতায় আক্রমণের চিহ্ন।
ধান গাছের শীষে আক্রান্ত হলে শীষ সম্পূর্ণ সাদা হয় এবং শীষের গোড়া পঁচে বাদামী বা কালচে দাগ হয়। ধানের কচি অবস্থায় এই রোগে আক্রান্ত হলে শীষ ভেঙ্গে ঝুলে থাকে এবং শীষের ধান অপুষ্ট হয়। আর ধানের কান্ডে আক্রান্ত হলে কান্ডের গিঁটে কালো দাগ দেখা যায়।

২) খোলপোড়া রোগ

ধান গাছের গোড়া থেকে উপরের দিকে খোল ও পাতায় গোখরা সাপের মতো ছোপ ছোপ দাগ দেখলে বুঝবেন ধানের খোলপোড়া রোগ হয়েছে। ছবিতে দেখুন।

ধানের খোলপোড়া রোগ

 

৩) বাকানি রোগ

ধানের বাকানি রোগ হলে ধান গাছ বেশ লিকলিকে, অন্য ধান গাছের তুলনায় বেশি লম্বা এবং হালকা সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে। এই রোগে আক্রান্ত হলে মাটির উপরিভাগে ধান গাছের কান্ডের গিঁটে শিকড় জন্মাতে দেখা যায়।

ধানের বাকানি রোগ, ধানের রোগের নাম,

 

৪) কান্ডপচা রোগ

প্রথমদিকে ধান গাছের বাইরের খোলে এই রোগের আক্রমণ শুরু হয়। দাগগুলো কালো এবং আয়তাকার হয়। পরবর্তীতে বাইরের খোল থেকে ভেতরের খোলে সংক্রমণ ঘটে। এমনিক কান্ডের ভিতরের দিকেও দাগগুলো অগ্রসর হতে থাকে। খুব বেশি আক্রান্ত হলে আক্রান্ত অংশ কালো হয়ে ভেঙ্গে পড়ে। আক্রান্ত গাছের কান্ড ভাঙলে ছোট ছোট কালে গোল গুটি দেখা যায়।

ধানের কান্ড পচা রোগ

 

৫) খোলপচা

ধানে শুধুমাত্র খোলপোড়া রোগ হয় না, খোলপচা রোগ হতেও দেখা যায়। এই রোগে আক্রান্ত হলে ধান গাছের শীষ আংশিক বের হয় এবং ধানগুলো অধিকাংশই কালো দাগযুক্ত হয়। ধান গাছের ডিগপাতার খোলে অনেকগুলো কালো দাগ মিলে পচে কালো রঙ ধারণ করে বলে এমনটা হয়।

ধানের খোলপচা রোগ

৬) চারা ঝলসানো/চারাপোড়া রোগ

শীতকালে বোরো ধানে বীজতলায় এই রোগ বেশি হয়ে থাকে। এই রোগে আক্রান্ত হলে অঙ্কুরিত বীজ ও চারা বাদামি রঙ ধারণ করে এবং সাদা ছত্রাকের উপস্থিতি বাড়ে। আক্রান্ত চারাগুলো ধীরে ধীরে মারা যেতে শুরু করে।

ধানের রোগের নাম, ঝলসানো রোগ

৭) পাতা ঝলসানো/পাতাপোড়া রোগ

ধানের ঝলসানো রোগ শুধুমাত্র চারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বড় গাছগুলোতেও এই রোগের আক্রমণ ঘটতে পারে। মূলত ব্যাকটেরিয়ার জন্য এই রোগ হয়ে থাকে। প্রথমদিকে পাতার শীর্ষে অথবা কিনারায় হলুদাভাব দাগ পড়ে এবং পরে পাতার উপর থেকে নিচের দিকে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগ বেশি মাত্রায় হলে ধানের পাতা দেখতে খড়ের মতো হয়ে যায়।

পাতা ঝলসানো/পাতাপোড়া রোগ

৮) পাতার লালচে রেখা

ধান গাছের পাতায় লালচে রেখা দেখলে বুঝবেন ধানগাছ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত হলে আক্রান্ত পাতার শিরা বরারবর লম্বালম্বি ও স্বচ্ছ দাগ হয় এবং এই পাতা সূর্যের বিপরীতে ধরলে সূর্যের আলো দেখা যায়। অনেকগুলো হলদে জীবাণুর গুটি হয়ে থাকে যার ফলে ধানের পাতা কমলা বা হলদে রঙ ধারণ করে।

ধানের রোগ

৯) উফরা রোগ

এই রোগে আক্রান্ত হলে ধানের শীষ বের হতে পারে না। যদি বেরও হয়, তাহলে শীষ কোকড়ানো এবং ধান কম পুষ্ট হয়। সাধারণত ধানের বর্ধিষ্ণু অংশে এই রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। এখান থেকে শুরু হয়ে নতুন পাতার গোড়ার দিকে সাদ দাগগুলো ছড়িয়ে পড়ে।

ধানের উফরা রোগ

১০) শিকড়গিঁট

সাধারণত বেলে ও বেল-দোআঁশ মাটিতে এই রোগ বেশি হয়ে থাকে। এই রোগ হলে গাছের শিকড়ে গিঁট সৃষ্টি হয়। ফলে গাছ মাটি হতে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদন সংগ্রহ করতে পারে না। খাদ্যের অভাবে গাছ হলুদাভাব রঙ ধারণ করে এবং গাছ খাটো হয়ে যায়। সাথে পাতায় বাদামি দাগও দেখা যায়।

১১) টুংরো রোগ

ধানের টুংরো রোগ হলে আক্রান্ত গাছে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত অবস্থায় কমলা-হলুদ রঙ ধারণ করে। আক্রান্ত গাছগুলোতে কুশির সংখ্যা কম হয় এবং গাছ খাটো হয়। নাইট্রোজেন এবং গন্ধক সার ব্যবহার করেও এই রোগের হলুদাভাব দূর করা যায় না। এই রোগ হলে ধান গাছে সবুজ পাতা ফড়িংয়ের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

ধানের টুংরো রোগ, ধানের রোগের নাম,

১২) নাইট্রোজেনের অভাব

ধান গাছে নাইট্রোজেনের অভাব হলে গাছ হলদে রঙ ধারণ করে। এটি বিক্ষিপ্ত হলুদ না হয়ে সব গাছগুলোতে হয়ে থাকে। সাধারণত ইউরিয়া সার প্রয়োগ করলে গাছগুলো সবুজ হয়ে উঠে।

নাইট্রোজেনের অভাবজনিত রোগ

১৩) গন্ধকের অভাব

ধান গাছের কচি পাতা হলদে বা বিবর্ণ হলে বুঝতে হবে গন্ধকের অভাব রয়েছে। নিচু জমির গাছে বেশি দেখা যায়। এরকম হলে জিপসাম প্রয়োগ করলে এই রোগ দূর হয়।

১৪) দস্তার অভাব

ধান গাছে দস্তার অভাবে গাছের পাতায় মরচে পড়া হলদে বা বাদামি হলদে দাগ দেখা যায়। এছাড়া শধ্য শিরার দুদিকে সাদা সাদা অংশ দেখা যায়। দস্তার অভাব হলে ধান গাছ কিছুটা খাটো এবং শিকড় সাদা বর্ণের হয়ে থাকে। সাধারণ জিংক সালেফেট প্রয়োগে এই সমস্যা দূর হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট

 

আরও জানুন:

ছাগলের রোগ সমূহ জেনে নিন লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়সহ

জেনে নিন লক্ষণসহ গরুর রোগের নাম সমূহ

Leave a Comment