Home » চর্বির কাজ কি? অতিরিক্ত চর্বি আমাদের কি কি ক্ষতি করে?
চর্বির কাজ কি

চর্বির কাজ কি? অতিরিক্ত চর্বি আমাদের কি কি ক্ষতি করে?

by Dr. ABM Khan
0 comment 144 views

আপনি কি জানতেন যে বর্তমানে এশিয়ার লোকেরা আমেরিকানদের তুলনায় চর্বি ভোজনে সমতা অর্জন করেছে? গড়ে একজন আমেরিকান প্রতিদিন এক পাউন্ডের এক চতুর্থাংশ নির্ভেজাল চর্বি বা তেল ভোজন করে। তা এক বছরে প্রায় ১০০ পাউন্ডে গিয়ে দাঁড়ায়। তিরিশ-চল্লিশ বছর আগে অধিকাংশ এশিয়াবাসী বছরে ৩০ পাউন্ডেরও কম তেল বা চর্বি ভোজন করত । প্রাচ্যে চর্বি ভোজনের অতিমাত্রা অবশ্যই এ অঞ্চলে হার্ট এ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদি রোগ বৃদ্ধির জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে। চর্বি কি খারাপ? যদি খারাপ না হয় তাহলে এর কতটুকু আপনি খেতে পারেন এবং কি প্রকারের চর্বি খাবেন, চর্বির কাজ কি ইত্যাদি বিষয় এই আর্টিকেলে জানবো।

চর্বির কাজ

আপনার শরীরে কিছু চর্বির প্রয়োজন আছে। মানব দেহের প্রতিটি জীবকোষ নিয়মিত গঠিত ও ব্যবহৃত হতে হলে আপনার দেহে কিছু উপযুক্ত চর্বির প্রয়োজন রয়েছে। চর্বি হচ্ছে জ্বালানি যা অন্য যে কোন খাদ্য অপেক্ষা দ্বিগুণ বেশী শক্তি আপনার দেহে সরবরাহ করে। দেহের ভিতরে চর্বির স্তর শক্তির ভান্ডার (banks) হিসেবে কাজ করে। চর্বি অপরিবাহ কাজে ব্যবহৃত হয়, ফলে আপনি সর্দি থেকে রেহাই পান। চর্বি দেহের স্নায়ু মন্ডলীকে আবৃত্ত করে রাখে। উপযুক্ত চর্বি যার নাম এইস ডি এল (HDL) ধমনী থেকে ক্ষতিকর এবং অপ্রয়োজনীয় কোলেষ্টেরল বহিষ্কার করতে সক্ষম। ভিটামিন A, D, E; এবং K চর্বিতে দ্রবীভূত হয় এবং এগুলো চর্বির মধ্যে সঞ্চিত থাকে। সুতরাং দেহে পরিমিত চর্বির বহু ভূমিকা রয়েছে ।

তাহলে খাদ্যে কি পরিমাণ এবং কি চর্বি গ্রহণ করা সমীচীন সেটাই হচ্ছে বিবেচ্য বিষয়। অনাকাঙ্খিত চর্বি যা প্রচুর পরিমাণে মাংস, প্রাণীজ খাদ্য, দুধ, ডিম, পনির এবং শূকোর চর্বি ইত্যাদির মধ্যে পাওয়া যায়। বিভিন্ন বাদাম এবং শস্যের মধ্যে পাওয়া যায় উপযুক্ত প্রাকৃতিক চর্বি। কোলেষ্টেরল এক প্রকারের চর্বি যা দেহের মধ্যে সযত্নে নিয়ন্ত্রণ করা বাঞ্ছনীয়। কোলেষ্টেরল কেবলমাত্র এবং প্রাণীজ খাদ্যে পাওয়া যায় এবং শাক সব্জিতে এটি থাকে না। প্রাত্যহিক তেল বা চর্বির ব্যবহার অদৃশ্য অবস্থায় হয়ে থাকে কারণ রন্ধন প্রক্রিয়ার ফলে তা অন্য খাদ্যের সাথে মিশে যায় । চর্বির প্রকার ভেদ

আপনি কি কখনো উপলব্ধি করেছেন যে প্রতিদিন আপনার দেহ চা চামচের এক অষ্টমাংশ থেকে এক চতুর্থাংশ পরিমাণ নির্ভেজাল কোলেষ্টেরল তৈরী করে এবং শরীরে যতটুকু কোলেষ্টেরল প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই সে উৎপাদন করে। এর বাইরে কোন বাড়তি কোলেষ্টেরল সেবন করলে তা দেহের মধ্যে মোট কোলেষ্টেরল পরিমাণ বৃদ্ধি করে। অতি মাত্রায় কোলেষ্টেরল দেহে এ্যাথরোসক্লোরোসিস নামক ধমনী কাঠিন্যতার সৃষ্টি করে এবং এ রোগটির কারণ হচ্ছে মনীর মধ্যে অতিমাত্রায় কোলেস্টেরল স্তর জমা হওয়া। এ থেকে ধমনীর ভেতরে সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হতে পারে এবং তাতে দেহের গুরুত্বপূর্ণ রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে।

কোন কোন চর্বি রক্তও হৃদযন্ত্রের অনুকূলে থাকে। এদের কাজ হলো ধমনীর যে সব স্থানে কোলেস্টেরল স্তর পড়েছে সেখান থেকে তা সরিয়ে নিয়ে যকৃত যোগে দেহ থেকে বহিষ্কার করা। অলিকা সিদ্ধ (Oleica cid) যা জলপাই, চিনাবাদাম এবং তিলের তেলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় মনে হয় দেহে HDL এর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ব্যায়াম করলে এবং মদ ও অতি সমৃদ্ধ মিষ্টি জাতীয় খানঃ পরিহার করলেও HDL এর মাত্রা বাড়তে পারে।

আর একটি উপকারী চর্বি হচ্ছে ওমেগা ৩ এসিড (omega 3 acids) করা হয় যে এই জিনিসটি সুতা এবং অস্ত্র ক্যান্সার হ্রাস করে। স্বাস্থ্য সম্মত ওমেগাত চর্বির উৎস হচ্ছে সয়াবিন, কলা, বরবটি, সীম, শস্য, বাদাম, শালগম, সবুজ শাহ্ এবং রাই ইত্যাদি ।

চর্বির বিপদ

এ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের সাথে সম্পৃক্ততা দ্বারাও চর্বিকে ক্যান্সারের কারণ বলে সন্দেহ করা হয়। স্তন ক্যান্সারের সাথে পরিশোধিত ভুট্টা এবং সব্জি তেলের আত ব্যবহারের যোগসাজশ রয়েছে। বিভিন্ন জীব জন্তুর উপরে গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে যত বেশী চর্বি ভোজন করা হয় তত বেশী ক্যান্সার প্রবণতা দেখা যায় । গবেষণাগারে যে সব প্রাণীদের যখন উচ্চ প্রোটিন এবং উচ্চ চর্বি এক সাথে খাওয়ানো হয় তখন কেবলমাত্র উচ্চ প্রোটিন বা উচ্চ চর্বি সেবন সময় অপেক্ষা ক্যান্সার প্রবণতা বেশী দেখা যায় ।

গবেষণাগারে প্রাণীদের উপরে পরীক্ষা চালিয়ে নিম্ন বর্ণিত উপসংহারে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে :-

১। ভাইরাস জনিত কারণে যে ক্যান্সার হয় তার বৃদ্ধি সাধনের মূল হচ্ছে চর্বির অতিমাত্রা

২। রাসায়নিক কারণে যে ক্যান্সার হয় তার বৃদ্ধি সাধনের মূল হচ্ছে চর্বির অতিমাত্রা।

৩। রঞ্জন রশ্মি (X-Ray) জনিত বিকিরণ প্রক্রিয়ার আনুষাঙ্গিক যে ক্যান্সার হয় তার বৃদ্ধি সাধনের মূল হচ্ছে চর্বির অতিমাত্রা।

৪। টিউমার অপসারণ করার পর তা অতিমাত্রার চর্বির ফলে আবার সৃষ্টি হয়।

উপসংহার

আদর্শগত দিক থেকে প্রাকৃতিক খাদ্য, যেমন শস্য, শাকসব্জি, বাদাম, এবং বিভিন্ন দানা জাতীয় উপাদানের মধ্যে যে চর্বি আছে, তা-ই কেবল গ্রহণ করা উচিত। মনে রাখবেন সব্জির মধ্যে যে চর্বি আছে তার মধ্যে কোন কোলেষ্টেরল কিংবা ভাইরাস থাকে না। তবুও অতিমাত্রায় পরিশোধিত সব্জি তৈল, বাদাম এবং দানা খাওয়া উচিত নয় ।

You may also like

Leave a Comment