Home » গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসের সতর্কতা – ১০টি নিয়ম মেনে চলতে হবে সবাইকে
গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসের সতর্কতা

গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসের সতর্কতা – ১০টি নিয়ম মেনে চলতে হবে সবাইকে

by Dr. ABM Khan
0 comment 178 views

গর্ভধারণ বা গর্ভবতী হওয়া প্রত্যেকটি মায়ের জন্য আনন্দের। কিন্তু এই আনন্দ নিরানন্দে পরিণত হতে সময় লাগবে না যদি এ সময় বেশ কিছু সতর্কতা মেনে চলা না হয়। তাই গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ রাখতে কি কি সতর্কতা মেনে চলতে হবে তা আজ আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে, আজকের লেখাটি হলো গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসের সতর্কতা সম্পর্কে। এ সম্পর্কে ১০টি সতর্কতার কথা তুলে ধরা হয়েছে এ লেখায়।

সন্তান ধারণ করার পর সন্তান প্রসব পর্যন্ত গর্ভকালের সময় হয় ৯ মাসের। আর চিকিৎসকরা এই ৯ মাসকে ভাগ করেছেন তিনটি ভাগে। অর্থাৎ, প্রতি ভাগে তিন মাস করে।

গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসের গণনা শুরু হয় গর্ভবতী হওয়ার আগে শেষবার মাসিকের প্রথম দিন থেকে। এই তিন মাস মানে সর্বমোট ১২ সপ্তাহ।

কোনো কোনো সন্তানসম্ভবা মায়ের প্রথম তিন মাসে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব দেখা দেওয়া তাদের মধ্যে একটি। একে ‘মর্নিং সিকনেস’ বলা হয়। কিন্তু দিনের বেলাতেও এটি হতে পারে।

ভিন্ন ভিন্ন নারীর বেলায় ভিন্ন ভিন্ন শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে গর্ভকাল। কোনো কোনো নারীর এসময় নানা খাদ্য খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা দেখা দিতে পারে, যাকে ‘ফুড ক্রেভিং’ বলা হয়। আবার কারও কারও খাওয়ার রুচিই চলে যায়। আবার কোনো কোনো গর্ভবতী আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন।

গর্ভকালের প্রথম তিন মাসে স্তন বেশ বড় ও ভারী হতে থাকে। অন্যদিকে ইউটেরাস বড় হতে থাকায় ব্লাডারে চাপ পড়ে; এতে গর্ভবতী নারীর প্রস্রাবের বেগ আগের তুলনায় বেশি হয়।

প্রথম তিন মাসে অনিয়মিত হরমোনের কারণে মানসিক দশায় বড় ধরনের বদল দেখা দিতে পারে যখন তখন। গর্ভবতী নারী কখনও গম্ভীর হতে পারেন, আবার কখনও বিরক্তও বোধ করতে পারেন। আর শুরুর দিকে ক্লান্তি বোধ করেন সব সন্তানসম্ভবা মায়েরাই।

এই সময় তাই গর্ভবতী মায়েদের বেশ সতর্ক থাকতে হয়।

যদি খুব বেশি অস্থিরতা দেখা দেয়, তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

প্রথম তিন মাস যেসব সতর্কতা মেনে চলতে হবে

গর্ভকালে মায়েদের অনেক কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। এসময় তাদের মন মেজাজ হঠাৎ হঠাৎ পরিবর্তিত হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে। এছাড়া সঠিকভাবে নিয়ম মেনে না চললে সন্তানেরও ক্ষতি হতে পারে। তাই গর্ভবতীয় মায়ের প্রথম তিন মাসের সতর্কতা কি কি অবলম্বন করতে হবে আসুন তা জেনে নিই।

১) গর্ভবতী হয়েছেন পরীক্ষার মাধ্যমে এটা নিশ্চিত হওয়ার পর সকল প্রকার এলকোহল, ক্যাফেইন, ধুমপান থেকে দূরে থাকুন। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এই সময়ে এইসব জিনিস বাচ্চাদের খুব ক্ষতি করে থাকে।

২) গর্ভবতী হওয়ার পর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলাটা বাধ্যতামূলক। এজন্য অতিসত্বর একজন ডাক্তার নির্বাচন করতে হবে। ডাক্তার নির্বাচন করার আগে যেসব জিনিস বিবেচনা করতে হবে তা হলো- ডাক্তারের সাথে যে কোন সময় যোগাযোগ করা সম্ভব কি না, দূরত্বটা কিরকম ইত্যাদি। কারণ এই সময়ে বেশি হাঁটাচলা করাটাও বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

৩) গর্ভবতী হবার কারনে শরীরে বেশ কিছু হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। যার ফলে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, খেতে না পারা, শরীর খারাপ ইত্যাদি হতে পারে। তবে সবারই যে এমন লক্ষণ দেখা দেয় তা নয়, কারোর কারোর এসবের তেমন কোনো লক্ষণই থাকে না। আর এমন কিছু হলে ভয় পাবেন না, আবার না হলেও ভয় পাবেন না। বেশি বেশি বমি হলে সকালে উঠে লেবু পানি খেতে পারেন। আর মাথা ব্যথাটা বেশি হলে কিছুক্ষণ শুয়ে বিশ্রাম নিন। ঠিক হয়ে যাবে।

৪) এসময় হরমোন ঘটিত পরিবর্তনের কারনে স্তনের আকারে অনেক ধরনের পরিবর্তন হওয়া শুরু হয়। এতে স্তনে ব্যথা হতে পারে এবং স্তন নরম হয়ে যাবে। এমনটা হলে ভয় পাবার কিছু নেই। মনে রাখবেন এই পরিবর্তন আপনার সন্তানের জন্য জরুরি।

৫) গর্ভবতী হবার ফলে কিছু শারীরিক পরিবর্তনও ঘটে। যেহেতু সন্তান জরায়ুতে ধারণ করা হয় ও জরায়ুর অবস্থান থাকে প্রসাবের নালীর উপরে, তাই বাচ্চা বেড়ে ওঠার সাথে সাথে জরায়ু প্রসাবের নালির উপরে কিছুটা চাপ ফেলে। ফলে প্রসাবের বেগ বেড়ে যায়। এই সমস্যা প্রথম ৩ মাসে এবং শেষ ৩ মাসে বেশ প্রবল থাকে।

৬) এছাড়াও অনেক গর্ভবতী মায়ের রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারোর রক্তচাপ বাড়তে পারে, আবার কারোর বা কমে যেতে পারে। সেই সাথে দেখা দিতে পারে সুগারের সমস্যা। তাই সন্তান গর্ভে ধারণের পর ডাক্তারের পরামর্শে সব কিছুর পরীক্ষা একবার করে নিয়ে দেখতে হবে গর্ভাবস্থা স্বাভাবিক আছে কি না। যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয় তবে নিয়মিত চেকআপের মধ্যে থাকতে হবে।

৭) গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসে বুক জ্বালা করা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে অনেকের। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের খাবার হজম এবং পেট খালি হতে অন্য স্বাভাবিক নারীদের তুলনায় বেশি সময় লাগে, কারণ গর্ভস্থ বাচ্চার পুষ্টি গ্রহণ করতে একটু সময় বেশি লাগে। তাই এইসময় কোষ্ঠকাঠিন্য ও বুক জ্বালা করলে ঘাবড়ে যাবেন না। দরকার পড়লে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ঔষধ সেবন করতে পারেন।

৮) এছাড়া নতুনাবস্থায় গর্ভ ধারণ কলে সব কিছু নতুন নতুন হওয়ায় মুড সুইংয়ের শিকার হতে পারেন। সাথে আছে নানা রকম “হরমোনাল চেঞ্জ” এর কারণে রাগ বা খারাপ লাগা অনুভূতি। এসময় অধিক উত্তেজনা পরিহার করে চলতে হবে। কারণ অতি উত্তেজনা গর্ভস্থ সন্তানের জন্য ভাল নয়।
সঙ্গীর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটু ধৈর্য ধরুন। মনে রাখবেন, আপনি যেমন মা হচ্ছেন, তেমনি তিনিও বাবা হচ্ছেন। তার কোন ভুল দেখতে পেলে রাগারাগি না করে একটু ধৈর্য্য ধরুন এবং তার কাজে সাহায্য করুন, সেই সাথে আপনার কোন কিছু খারাপ লাগলে অবশ্যই জানান।

৯) গর্ভকালের প্রথম তিন মাসের বাচ্চা এবরশনের হার সবচাইতে বেশি থাকে। তাই এ সময় আপনাকে বেশ সতর্ক হতে হবে। ভারী কাজ তো করা যাবেই না। সেই সাথে খাবার দাবারের বেলায়ও বাছবিচার করতে হবে। যা খেলে আপনার সন্তানের ক্ষতি হতে পারে তা খাবেন না। যেমন- পেঁপে, আনারসের সাথে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যেমন মাছ, মাংস, ডিম এসব পরিহার করে চলতে হবে। প্রোটিন ভালো করে রান্না করে তবেই খাবেন। চিজ জাতীয় খাবার  পরিহার করে চলবেন। এসময় সবসময় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

১০) যেকোনো ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই খাবেন। আর এসময় ঘুমের সময় বাড়িয়ে দিবেন। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘন্টা করে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। এছাড়াও সারাদিনের কাজের ফাঁকে হালকা হালকা বিশ্রাম করে নিতে হবে।

You may also like

Leave a Comment